আজ ১১ জানুয়ারি ২০২৬, দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ ভোরে পাবনা ও পঞ্চগড়ে বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা জনজীবনকে কার্যত স্থবির করে দিয়েছে। কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের বিশাল এলাকা। ঘন কুয়াশার কারণে সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন, যার ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে সাধারণ মানুষের দ্বিগুণ সময় লাগছে।
নদী অববাহিকা ও চরাঞ্চলগুলোতে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে দিনভর সূর্যের দেখা মিলছে না, ফলে বেলা বাড়লেও কমছে না ঠাণ্ডার প্রকোপ। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, হিমালয় থেকে আসা হিমেল বাতাসের কারণেই জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এই শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতি আরও দুই থেকে তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ঠাণ্ডাজনিত রোগ ও শ্বাসকষ্টের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
রাজধানী ঢাকার আকাশ আজ আংশিক মেঘলা থাকলেও বাতাসের গতি বেশি থাকায় কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। সকালে সদরঘাট ও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখতে হয়েছে। এর ফলে ঘাটের দুই পাশে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস আটকা পড়েছে। নিম্নআয়ের মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে শীতার্তদের জন্য কম্বল বিতরণের কাজ শুরু হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ উঠেছে।
