ইরানে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। সম্প্রতি ইসরায়েল বা আমেরিকার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের গুঞ্জনের প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা দিল ইরান। দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সীমানায় সামান্যতম আঘাত এলেও এর বদলা নিতে কয়েক মিনিটের মধ্যে হাজার হাজার মিসাইল ধেয়ে যাবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকে। বিশেষ করে কাতার, বাহরাইন এবং কুয়েতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলো এখন সরাসরি ইরানি রাডারের আওতায় রয়েছে।
ইরান স্পষ্ট করে বলেছে, তারা কেবল রক্ষণাত্মক অবস্থানে থাকবে না, বরং আক্রান্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব স্থানে সরাসরি হামলা চালাবে। পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকেও এই হুমকির আওতায় রাখা হয়েছে। তেহরানের দাবি, তাদের অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম। এই পরিস্থিতির ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যেসব দেশ তাদের মাটি ব্যবহার করে ইরান বিরোধী অভিযানে সহায়তা করবে, তাদেরও শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে তেহরান জানিয়েছে, মার্কিনীদের সুবিধা দিতে গিয়ে যেন তারা নিজেদের বিপদ ডেকে না আনে। এদিকে এই হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। পেন্টাগন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেও সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
