চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালে ৩৪ লাখ ৪৩ হাজার টিইইউএস (TEUs) কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এটি বন্দরের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ কন্টেইনার ব্যবস্থাপনার রেকর্ড। এর আগে কোনো বছরই এত বিশাল পরিমাণ পণ্য এই বন্দরে খালাস বা জাহাজীকরণ করা সম্ভব হয়নি।
বিগত ২০২৪ সালের তুলনায় এবার কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। মূলত দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোয় এই সাফল্য এসেছে। নতুন যুক্ত হওয়া গ্যান্ট্রি ক্রেন ও অত্যাধুনিক ইয়ার্ড ব্যবহারের ফলে জাহাজ থেকে পণ্য নামানোর গতি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।
বন্দর সচিব জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও কার্যক্রম এক মুহূর্তের জন্যও থমকে থাকেনি। বিদেশি বড় বড় শিপিং লাইনগুলো চট্টগ্রাম বন্দরের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। একই সময়ে বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থানকালও আগের চেয়ে কমে এসেছে।
বর্তমানে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ায় হ্যান্ডলিং ক্ষমতা আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছে। এছাড়া মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর ও বে-টার্মিনালের কাজ শেষ হলে এই সংখ্যা ৫০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সাফল্যের ফলে বিশ্বসেরা ১০০টি বন্দরের তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান আরও কয়েক ধাপ উপরে উঠে আসবে।
রপ্তানি পণ্য দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করার জন্য অফডকগুলোর সাথে সমন্বয় বাড়ানোও এই রেকর্ডের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা বলছেন, অটোমেশন এবং পেপারলেস সেবা নিশ্চিত হওয়ায় ভোগান্তি অনেকটা কমেছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশের অর্থনীতিতে আরও গতি আসবে।
