নাটকীয় পরিবর্তন আর একের পর এক ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ২০২৫ সাল। এই বছরটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। বছরের একদম শেষ মুহূর্তে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রয়াণ এবং তার আগে দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে।
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ ভোরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। পরদিন ৩১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে সমাহিত করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত লাখো মানুষের ঢল নামে। তিনি দেশে ফিরেই 'নতুন বাংলাদেশ' গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তাঁর এই ফিরে আসা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপিকে নতুন করে উজ্জীবিত করেছে।
২০২৫ সালেই দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নেমে আসে কালো মেঘ। মে মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে দলটির সব ধরণের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে দলটির নিবন্ধনও স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। বছরজুড়ে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও এমপিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও সাজা ছিল আলোচনার কেন্দ্রে।
বছরের মাঝামাঝি সময়ে 'জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫' স্বাক্ষরিত হয়, যা রাষ্ট্র সংস্কারের নতুন দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করছে। এই সনদের মাধ্যমে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমাবদ্ধ করার মতো প্রস্তাবগুলো রাজনৈতিক ঐকমত্য পেয়েছে। এছাড়াও ২০২৫ সালে ইনকিলাব মঞ্চের শরিফ ওসমান হাদির মতো উদীয়মান নেতাদের বিদায় বা হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
বছরের শেষ দিনে সারা দেশে ছিল এক ধরনের শোকাতুর পরিবেশ। খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল ছিল একদিকে স্বজন হারানো শোকের, অন্যদিকে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আশার বছর।
