অফসাইড বিতর্কের দিন শেষ! বিশ্বকাপে আসছে ফিফার অবিশ্বাস্য 'থ্রিডি অ্যাভাটার' প্রযুক্তি



আসন্ন বিশ্বকাপে অফসাইডের নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআইচালিত 'থ্রিডি অ্যাভাটার' প্রযুক্তি ব্যবহার করার ঘোষণা দিয়েছে ফিফা। এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মাঠের খেলোয়াড়দের প্রতিটি নড়াচড়া সেকেন্ডের মধ্যেই নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। স্টেডিয়ামের ছাদের নিচে বসানো ১২টি বিশেষ ট্র্যাকিং ক্যামেরা প্রতিটি ফুটবলারের শরীরের ২৯টি পয়েন্ট ট্র্যাক করবে। এই তথ্যগুলো প্রতি সেকেন্ডে ৫০ বার প্রসেস করা হবে, যা থেকে তৈরি হবে প্লেয়ারদের থ্রিডি অ্যাভাটার বা ডিজিটাল প্রতিচ্ছবি। ফলে কোনো খেলোয়াড়ের হাত বা পায়ের সামান্য অংশও যদি অফসাইড পজিশনে থাকে, তবে সেটি সাথে সাথেই ধরা পড়বে।

রেফারিদের সহায়তা করার জন্য এই প্রযুক্তিতে থাকছে একটি বিশেষ সেন্সর, যা ফুটবলের ভেতরে বসানো থাকবে। এই সেন্সরটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার ডেটা পাঠাবে, যার মাধ্যমে বল কিক করার সঠিক মুহূর্তটি নির্ভুলভাবে জানা যাবে। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভার (VAR) রুমে থাকা কর্মকর্তাদের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অফসাইড অ্যালার্ট চলে আসবে। সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হওয়ার পর স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় এবং টিভি দর্শকদের জন্য সেই থ্রিডি অ্যানিমেশনটি দেখানো হবে। ফিফা মনে করছে, এর ফলে অফসাইড নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটবে এবং সময়ও অনেক কম লাগবে।

আগে অফসাইড চেক করতে যেখানে গড়ে ৭০ সেকেন্ড সময় লাগত, এই প্রযুক্তির কল্যাণে তা মাত্র ২০ থেকে ২৫ সেকেন্ডে নেমে আসবে। প্রযুক্তিটি কেবল অফসাইড নয়, গোল লাইন প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও আরও স্বচ্ছতা নিয়ে আসবে বলে দাবি ফিফার। ফুটবলারদের গতিবেগ এবং শারীরিক অবস্থান বিশ্লেষণ করে এটি নিখুঁত গ্রাফিক্স তৈরি করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে মাঠে থাকা রেফারিদের ওপর চাপ অনেক কমবে এবং ভুল সিদ্ধান্তের হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। ২০২৬ সালের ফুটবল মহাযজ্ঞে এই প্রযুক্তির পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।

 

Previous Post Next Post