সুন্দরবনে বনভোজন করতে আসা পর্যটকদের অপহরণের ঘটনায় মূল হোতা মাসুমকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাসুমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে দস্যুতা এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে পর্যটক অপহরণের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। বন বিভাগ ও পুলিশ জানিয়েছে, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের বাকি সদস্যদের ধরার চেষ্টা চলছে।
গত সপ্তাহে একদল পর্যটক সুন্দরবনের নির্দিষ্ট এলাকা ভ্রমণে গেলে সশস্ত্র অবস্থায় মাসুম ও তার বাহিনী হামলা চালায়। পর্যটকদের মারধর করে বনের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। এই ঘটনার পর সুন্দরবন ও এর আশপাশে নিরাপত্তা নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মাসুমকে গ্রেপ্তারের ফলে বনের দস্যু দমনে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তার কাছ থেকে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও কয়েকটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে যা অপহরণের কাজে ব্যবহৃত হতো।
সুন্দরবনের পর্যটন এলাকাগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে টহল আরও বাড়ানো হয়েছে। বন দস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধে যৌথ অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। মাসুমের বিরুদ্ধে একাধিক থানায় অপহরণ ও ডাকাতির মামলা রয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড চাওয়া হবে যাতে এই চক্রের পুরো নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা যায়। বর্তমানে সুন্দরবনের পর্যটন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

