কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এখন পর্যটকদের পদভারে মুখরিত। টানা কয়েকদিনের ছুটিতে যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে নীল জলরাশির টানে সাগরপাড়ে ছুটে এসেছেন লাখো মানুষ। শুধু সমুদ্র সৈকত নয়, পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে ইনানী, হিমছড়ি এবং টেকনাফের সাবরাং ট্যুরিজম পার্কেও। বালিয়াড়িতে ছাতা বা কিটকট নিয়ে বসার জায়গা পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। হোটেল-মোটেলগুলোর প্রায় সব কক্ষই আগেভাগে বুক হয়ে যাওয়ায় অনেক পর্যটক কিছুটা বিপাকে পড়েছেন, তবুও আনন্দ থামেনি। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এবার রেকর্ড সংখ্যক পর্যটনের সমাগম হয়েছে যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে।
একই চিত্র দেখা গেছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে। মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালিতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই; কটেজগুলোতে পর্যটকদের দীর্ঘ অপেক্ষা দেখা গেছে। নীলগিরি এবং মেঘলার পাহাড়ী সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গাড়ি নিয়ে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ পাড়ি দিচ্ছেন। রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত ব্রিজ এবং কাপ্তাই লেকের বোট রাইডিংয়ের জন্য দীর্ঘ লাইন দিতে হচ্ছে পর্যটকদের। পর্যটনের এই বাড়তি চাপ সামলাতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন হিমশিম খাচ্ছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পর্যটন স্পটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। খাবারের হোটেলগুলোতেও মানুষের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে একটু প্রশান্তির খোঁজে আসা মানুষের এই বাঁধভাঙ্গা জোয়ারে পুরো পর্যটন এলাকা এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে।
