জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র চরম উত্তেজনাপূর্ণ বাকযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরানের সাম্প্রতিক ১৮০টি মিসাইল নিক্ষেপকে কেন্দ্র করে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস গ্রিনফিল্ড সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ওপর আর কোনো হামলা চালায়, তবে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। তিনি ইরানের এই পদক্ষেপকে কেবল ইসরায়েলের জন্য নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন।
পাল্টা বক্তব্যে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জানান, ইসরায়েলের ক্রমাগত আগ্রাসন ও হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এই হামলা ছিল তাদের আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু উসকানি দিলে তারা চুপ করে বসে থাকবে না। বৈঠকে ইসরায়েলি দূত ড্যানি ড্যানন ইরানকে ‘সন্ত্রাসবাদের মূল হোতা’ আখ্যা দিয়ে তাদের ওপর কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার দাবি তোলেন। অন্যদিকে, রাশিয়া ও চীন সরাসরি ইরানের পক্ষ না নিলেও এই অস্থিরতার জন্য ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলোর একতরফা নীতিকে দায়ী করেছে।
নিরাপত্তা পরিষদের এই অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি দুই পক্ষকেই সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন, যদিও মাঠের চিত্র বলছে পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। এই বৈঠকের পর ইসরায়েল ও ইরান—উভয় দেশই একে অপরকে লক্ষ্য করে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে রেখেছে।
