২০২৬ সালের শুরুতেই বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় পরিস্থিতির এক নতুন চিত্র সামনে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে ধর্মের নামে সহিংসতা এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তন—দুটোই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। উত্তর কোরিয়া টানা ২৪ বছর ধরে ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে, যেখানে কোনো ধরণের স্বাধীন উপাসনার সুযোগ নেই বললেই চলে। আফ্রিকায় নাইজেরিয়ার পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে; দেশটিতে গোষ্ঠীগত সংঘাত এবং চরমপন্থার কারণে গত এক বছরে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সিরিয়ায় ধর্মীয় সহিংসতা এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে গেছে, যার ফলে দেশটি এখন ধর্মীয় নিপীড়নের তালিকায় শীর্ষ দশে উঠে এসেছে। সোমালিয়া, ইয়েমেন এবং এরিত্রিয়ার মতো দেশগুলোতেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে বেশ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্ব এক বড় পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে; বর্তমান প্রবণতা অনুযায়ী ২০৬০ সাল নাগাদ ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে আফ্রিকার দেশগুলোতে খ্রিস্টান জনসংখ্যার হার সবচেয়ে বেশি, এমনকি তা ইউরোপকেও ছাড়িয়ে গেছে। ভারতে হিন্দু ও মুসলিম জনসংখ্যার হার মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে ধর্মীয় মেরুকরণ আগের চেয়ে তীব্র হয়েছে। পাকিস্তানে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বাড়ায় সংখ্যালঘু হিন্দু ও খ্রিস্টানদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কেনিয়ার মতো দেশগুলোতে আবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে, সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ অন্য ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করছেন। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী দেশ হিসেবে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কায় ধর্মীয় প্রভাব রাজনীতিতেও বেশ জোরালোভাবে দেখা যাচ্ছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক আদালতে নতুন করে গতি পাওয়ায় বিশ্ববাসীর নজর এখন সেদিকে। ইউরোপের দেশগুলোতে অভিবাসনের কারণে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়লেও সেখানে ইসলামোফোবিয়া বা ধর্মভীতি মোকাবিলায় নতুন আইন তৈরির চিন্তা-ভাবনা চলছে।
