বিশ্ব অর্থনীতির শীর্ষে কারা? যুক্তরাষ্ট্র না কি চীন—কার দখলে কত ট্রিলিয়ন?


 বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথ ২০২৬ সালে এসে বেশ খানিকটা ধীর হয়ে পড়েছে, যেখানে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, এ বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার কমে ৩.১ শতাংশে নামতে পারে। গত কয়েক বছরের উচ্চ শুল্ক নীতি এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যকার বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব এখন বিশ্ববাজারে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে প্রবৃদ্ধির দৌড়ে এখন একেক দেশে একেক চিত্র দেখা যাচ্ছে।


যুক্তরাষ্ট্র ২০২৬ সালেও বিশ্বের এক নম্বর অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। দেশটির জিডিপির আকার প্রায় ৩১.৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং এ বছর তাদের প্রবৃদ্ধি ২.১ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, চীন দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও তাদের অর্থনীতির গতি আগের চেয়ে কমেছে। আবাসন খাতের সংকট আর বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চীনের প্রবৃদ্ধি ৪.২ শতাংশের আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রবৃদ্ধির দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ভারত। ২০২৫ সালে জাপানকে পেছনে ফেলে চতুর্থ স্থানে উঠে আসা ভারতের অর্থনীতির আকার এখন ৪.৫ ট্রিলিয়ন ডলার, আর তাদের প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৬.২ শতাংশ।

ইউরোপের দেশগুলোর অবস্থা খুব একটা সুবিধার নয়। জার্মানি ৫.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকলেও তাদের প্রবৃদ্ধি মাত্র ০.৯ শতাংশে আটকে আছে। জাপান এখন ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে, তাদের প্রবৃদ্ধির হার আরও কম—মাত্র ০.৬ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ১.৩ শতাংশ হারে বাড়ছে এবং তাদের জিডিপির আকার ৪.২ ট্রিলিয়ন ডলার। ফ্রান্স ও ইতালির মতো দেশগুলোও ১ শতাংশের নিচে প্রবৃদ্ধি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশ স্থিতিশীল। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জিডিপি ৫১৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং প্রবৃদ্ধির হার ৪.৯ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা অনেক উন্নত দেশের তুলনায় বেশ ভালো। উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনও ৫ শতাংশের কাছাকাছি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

Previous Post Next Post