সারা দেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন, যেখানে প্রথম দিনেই অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে এই বাছাই প্রক্রিয়া চলাকালীন ঋণখেলাপি, কর ফাঁকি এবং হলফনামায় তথ্যের গরমিল পাওয়ায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ছোটখাটো ভুলের কারণে ছোট দলের বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও বড় দলের প্রার্থীরাও ছাড় পাচ্ছেন না।
তালিকায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় এবং সম্পদের সঠিক হিসাব না দেওয়ায় দেশের বেশ কয়েকজন আলোচিত রাজনীতিকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বরাবর আপিল করার সুযোগ পাবেন। কমিশন ভবনে ইতিমধ্যে আপিল বুথ বসানো হয়েছে এবং সেখানে শুনানির জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করা হচ্ছে। অনেক প্রার্থীর ক্ষেত্রে সমর্থকের স্বাক্ষরে মিল না থাকা বা এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাদের ফরম স্থগিত রাখা হয়েছে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা তথ্যে জানা গেছে, রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতিটি লাইনের তথ্য নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করছেন। যেখানেই অসঙ্গতি পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। স্থগিত হওয়া প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের। এই যাচাই-বাছাই চলবে আগামী কয়েক দিন পর্যন্ত, যা নিয়ে সারাদেশের রাজনৈতিক মহলে এখন টানটান উত্তেজনা কাজ করছে। মনোনয়ন টিকিয়ে রাখতে প্রার্থীরা তাদের আইনজীবীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন চত্বরে ভিড় করছেন।
