ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে আগুন: ভেনেজুয়েলায় হামলার হুমকিতে তোলপাড়।


ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পবিরোধী তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। লাতিন আমেরিকা থেকে শুরু করে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাজপথে নেমে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীরা ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব রক্ষার দাবি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। লন্ডনের মার্কিন দূতাবাসের সামনে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন।

মেক্সিকো সিটি এবং মাদ্রিদে বিশাল জনসভায় বক্তারা বলেছেন, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসেও লাখ লাখ মানুষ মিছিল করে মার্কিন আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার শপথ নিয়েছেন। বিক্ষোভের কারণে অনেক দেশে মার্কিন দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা উড়িয়ে না দেওয়ার পর থেকেই এই অস্থিরতা শুরু হয়।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলেও বড় ধরণের প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে "যুদ্ধের উস্কানিদাতা" হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিক্ষোভ ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির ওপর বড় ধরণের চাপ তৈরি করবে। বিভিন্ন দেশের বামপন্থী ও শান্তিকামী সংগঠনগুলো এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে। তারা দ্রুত মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে জাতিসংঘকে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

বিক্ষোভের আঁচ পৌঁছেছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেও; ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের সামনে শান্তিকামী নাগরিকরা "নো ওয়ার ফর অয়েল" সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। লাতিন আমেরিকার জোটগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কড়া সমালোচনা করে ভেনেজুয়েলার জনগণের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। সারা বিশ্বে বাড়তে থাকা এই উত্তেজনা ভেনেজুয়েলা সংকটকে নতুন এক ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

 

Previous Post Next Post