ইরানজুড়ে চলা ভয়াবহ সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত একজন কানাডীয় নাগরিক নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইরানি কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপেই ওই নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নিহত ব্যক্তির নাম বা বিস্তারিত পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি কানাডা সরকার। কানাডার কনস্যুলার কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে দেশটিতে থাকা নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে এই গণবিক্ষোভ শুরু হয়, যা দ্রুতই পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির বর্তমান শাসকগোষ্ঠী এই আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি ও বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতায় অন্তত ২৪০০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা অটোয়া ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন করে চরম উত্তেজনার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
কানাডা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে ইরানে সব ধরণের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি জানানো নাগরিকদের ওপর এই ধরণের বর্বরোচিত দমন-পীড়ন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। উল্লেখ্য, জানুয়ারির শুরু থেকেই কানাডা সরকার তাদের নাগরিকদের জরুরি ভিত্তিতে ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়ে আসছিল। তেহরান বর্তমানে বিক্ষোভ ঠেকাতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য পেতে বেগ পেতে হচ্ছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোকে। জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোও ইরানের এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি শান্ত না হলে কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।
