গুমের ঘটনা অনুসন্ধানে গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিশনের মেয়াদ আরও ১৫ দিন বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই কমিশন আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে। বিচারক মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনকে সময় দিয়ে গতকাল একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। মূলত ঝুলে থাকা অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি করতেই এই বাড়তি সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ১৬শর বেশি গুমের অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৪০০টির বেশি অভিযোগের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ও শুনানি শেষ হয়েছে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে বিভিন্ন গোপন বন্দিশালা বা আয়নাঘরে একাধিকবার তল্লাশি চালিয়েছেন কমিশনের সদস্যরা। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্পৃক্ততার প্রমাণও মিলেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাতে থাকা অভিযোগগুলোর অনেকগুলোই স্পর্শকাতর এবং এগুলোর কূলকিনারা করতে আরও তথ্যের প্রয়োজন। গত কয়েক মাসে অভিযুক্ত বেশ কয়েকজন পুলিশ ও র্যাব কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গুমের প্রতিটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে কমিশনকে পূর্ণ সহযোগিতা দিচ্ছে।
১৫ জানুয়ারির মধ্যে কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই প্রতিবেদনে গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কিছু সুপারিশ থাকতে পারে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এই কমিশনের মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা পরিষ্কার হবে।
