বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিতর্কের কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অনেক গভীরে এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট টুর্নামেন্ট বা খেলার মাঠের ঘটনার ওপর নির্ভর করে না। নীতিনির্ধারক ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইপিএল নিয়ে জনমনে সাময়িক উত্তেজনা থাকলেও বড় মাপের ব্যবসায়িক লেনদেনে এর আঁচ লাগবে না। প্রতিদিন দুই দেশের সীমান্তে কয়েকশ কোটি টাকার পণ্য আদান-প্রদান হয়, যা সুনির্দিষ্ট চুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত।
ভারত থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ, চিনি ও চালের মতো নিত্যপণ্যের আমদানির প্রক্রিয়া নিয়মিতভাবেই সচল রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের পোশাক খাতের পণ্যও ভারতে বড় বাজার তৈরি করে নিয়েছে। বাণিজ্যিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সাপ্লাই চেইন বা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত কোনো ধরণের বিঘ্ন ঘটার খবর পাওয়া যায়নি। বন্দরগুলোতে স্বাভাবিক নিয়মেই ট্রাক পারাপার হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা এলসি খুলছেন। দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকেও বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে ইতিবাচক সংকেত দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইপিএল বয়কট বা খেলা সংক্রান্ত আবেগ কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকে। শিল্প কারখানার কাঁচামাল এবং জরুরি সেবার ক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। এই ধরণের নির্ভরতা হুট করে ছিন্ন করা কোনো পক্ষের জন্যই লাভজনক নয়। তাই ক্রিকেট মাঠের বিতর্ককে মাঠেই সীমাবদ্ধ রেখে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী দিনগুলোতেও আমদান-রপ্তানির এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
