ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র এক বছরের মাথায় বিশ্বের অন্তত ছয়টি দেশে সামরিক হামলা চালিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন। নির্বাচনী প্রচারণায় বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় তাঁর ‘শান্তি নীতি’ নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত এক বছরে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ড্রোন হামলা এবং সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল অঞ্চলগুলোতে মার্কিন সামরিক তৎপরতা আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়েছে।
পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে ইরাক, সিরিয়া এবং ইয়েমেনে একাধিক বড় আকারের সামরিক অপারেশন চালানো হয়েছে। এই হামলাগুলোতে জঙ্গি আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করা হলেও প্রচুর বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। আফ্রিকাতেও মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের উপস্থিতি এবং সোমালিয়ার মতো দেশগুলোতে লক্ষ্যভ্রষ্ট হামলার খবর পাওয়া গেছে। ট্রাম্পের এমন আগ্রাসী পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে মিত্র দেশগুলোর অনেক নেতাও এখন প্রকাশ্যে সমালোচনা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন কূটনীতির চেয়ে শক্তি প্রয়োগকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যা বিশ্বকে নতুন করে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়াতেও ড্রোন হামলার হার বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন তিনি আমেরিকাকে যুদ্ধের ব্যয় থেকে বাঁচাবেন, কিন্তু প্রতিরক্ষা বাজেটে রেকর্ড বরাদ্দ ও নতুন নতুন ফ্রন্টে হামলা তাঁর সেই দাবির বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে। এই হামলাগুলোর ফলে শরণার্থী সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ।
