সিরিয়ায় ব্রিটেন ও ফ্রান্সের ভয়াবহ বিমান হামলা: জ্বলছে একের পর এক শহর


 সিরিয়ার বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে ভয়াবহ যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের বিমানবাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে হঠাৎ এই দুই ইউরোপীয় শক্তির সরাসরি সামরিক অভিযানে পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মূলত সিরিয়ার ভেতরে থাকা নির্দিষ্ট কিছু জঙ্গি আস্তানা এবং রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির কারখানাকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশ দুটি। অভিযানে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও দূরপাল্লার মিসাইল ব্যবহার করা হয়।

হামলার পরপরই ব্রিটেন ও ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান হুমকি দমন করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হামলার ফলে সিরিয়ার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। তবে সিরিয়ার সরকারি গণমাধ্যম এই হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে।

রাশিয়া ও ইরান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, কোনো ধরণের আন্তর্জাতিক অনুমোদন ছাড়াই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, স্থলভাগের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দামেস্ক ও তার আশেপাশের এলাকায় সারারাত ধরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে।

এই সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ এক নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনে তারা আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবেন না। ফরাসি প্রেসিডেন্টও একইভাবে হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরে মিত্র দেশগুলোর সমর্থন চেয়েছেন। হামলার পর থেকে সিরিয়ার আকাশসীমায় বাণিজ্যিক বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।


Previous Post Next Post