ইউক্রেন থেকে তাইওয়ান: ২০২৬ কি তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বছর?


 রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশ্ব পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। ১৬ জানুয়ারি ২০২৬-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পুতিন স্পষ্ট করে বলেছেন যে পৃথিবী এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে এবং পুরনো সংঘাতগুলো আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে ইউক্রেন সীমান্তে যুদ্ধের ১,৪২২তম দিনে এসেও থামার কোনো লক্ষণ নেই; বরং মস্কো দনবাস অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে। এদিকে ইউরোপের দেশগুলো বিশেষ করে পোল্যান্ড ও ফ্রান্স এখন গ্রিনল্যান্ড এবং আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক তৎপরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও বেশ থমথমে, কারণ গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরুর কথা থাকলেও সেখানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

অন্যদিকে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের কারণে পরিস্থিতি বেশ টালমাটাল হয়ে আছে, যেখানে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশটির তেল সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ এবং নব্য নেতৃত্বের অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। এশিয়ায় তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে বেইজিং ও তাইপে'র মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে, যেখানে চীন ২০২৬ সালকে সামরিক সক্ষমতা প্রমাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। পাকিস্তান আবার সুদান ও আরব দেশগুলোতে তাদের সামরিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, যা দক্ষিণ এশীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। সব মিলিয়ে উত্তর গোলার্ধ থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত প্রতিটি অঞ্চলে পরাশক্তিগুলোর সামরিক মহড়া ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি একটি বড় আকারের বৈশ্বিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

Previous Post Next Post