চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এক আওয়ামীপন্থি শিক্ষককে আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেছেন চাকসু (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) নেতারা। আজ শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের সামনে থেকে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ছাত্রনেতারা দাবি করেছেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করা এবং ক্যাম্পাসে দলীয় লেজুড়বৃত্তির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরাও সেখানে জড়ো হয়ে ওই শিক্ষকের বিচারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
আটককৃত শিক্ষককে প্রক্টর অফিসে নেওয়ার পর সেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চাকসু নেতারা প্রক্টরের কাছে ওই শিক্ষকের অতীত কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরেন এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লবের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দমন করতে এই শিক্ষক পর্দার আড়াল থেকে উসকানি দিয়েছিলেন। প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে একটি প্রাথমিক তদন্ত দল গঠন করা হতে পারে। উপস্থিত ছাত্রনেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ক্যাম্পাসে কোনো অপরাধীকে শিক্ষক হিসেবে দেখতে চান না তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, "ছাত্ররা একজন শিক্ষককে এখানে নিয়ে এসেছে এবং কিছু অভিযোগ জমা দিয়েছে।" বর্তমানে ওই শিক্ষক প্রক্টর অফিসের হেফাজতে রয়েছেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে আসছেন। অন্যদিকে, প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে চাকসু প্রতিনিধিরা বলছেন, কেবল তদন্ত নয়, দৃশ্যমান শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখান থেকে সরবেন না।
