ইরানের রাজপরিবারের উত্তরাধিকারী রেজা পাহলভী দেশজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা বাড়াতে সাধারণ মানুষকে তেহরানসহ বড় শহরগুলোর কেন্দ্র দখলের ডাক দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে চূড়ান্ত বিজয়ে রূপ দিতে হলে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা এবং শহরের প্রাণকেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নেওয়া জরুরি। রেজা পাহলভীর এই আহ্বানের পর বিক্ষোভকারীরা নতুন উদ্যমে রাজধানী তেহরানের প্রধান চত্বরগুলোতে জড়ো হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর আগে জাহেদান থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন ইরানের ছোট-বড় প্রায় সব শহরে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভকারীরা 'একনায়কতন্ত্রের অবসান চাই' স্লোগান দিয়ে রাজপথে নেমে এসেছেন এবং অনেক জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেছেন। তেহরানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ জোরদার করা হয়েছে, মোতায়েন করা হয়েছে দাঙ্গা পুলিশ ও বিশেষ বাহিনী। রেজা পাহলভী প্রবাসী ইরানিদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিশ্বনেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টির অনুরোধ জানিয়েছেন। তার মতে, এবার যদি শহরের মূল নিয়ন্ত্রণ সাধারণ মানুষের হাতে চলে আসে, তবে বর্তমান শাসনের ভিত নড়ে উঠবে। ইরানের মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, গত কয়েক ঘণ্টায় রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় ধড়পড়াও ব্যাপক বেড়েছে।
শহরের কেন্দ্রস্থল দখলের এই ডাক ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, কারণ এতে সরাসরি শাসনব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেছেন যাতে নিরাপত্তা বাহিনীর যানবাহন চলাচল করতে না পারে। সরকার পক্ষ থেকে ইন্টারনেট সেবার ওপর নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে যাতে আন্দোলনের সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও তরুণ প্রজন্ম ভিপিএন এবং অন্যান্য বিকল্প মাধ্যম ব্যবহার করে রেজা পাহলভীর বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা তেহরানের জন্য অত্যন্ত সংকটপূর্ণ হতে পারে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
