গাজায় ইসরায়েলের বিধ্বংসী 'বিস্ফোরক রোবট' হামলা,

 


গাজা সিটিতে হামলা চালাতে ইসরায়েলি বাহিনী এক নতুন ও শক্তিশালী মারণাস্ত্র ব্যবহার করছে, যা মূলত বিস্ফোরকবোঝাই আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি)। রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চালকহীন যানগুলো এক থেকে তিন টন পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বড় বড় ভবন গুঁড়িয়ে দিতে এসব 'বিস্ফোরক রোবট' ব্যবহার করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইসরায়েলি সেনারা পুরনো এম-১১৩ মডেলের সাঁজোয়া যানগুলোকে রিমোট কন্ট্রোল বোমায় রূপান্তর করেছে। ড্রোন ফুটেজ ও স্যাটেলাইট ছবিতে গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া এবং সাবরা এলাকায় এই যানের আঘাতে বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস হতে দেখা গেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই একটি যানের বিস্ফোরণ ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ২ হাজার পাউন্ডের মার্ক-৮৪ বোমার সমান।

তেল আল-হাওয়া এলাকার বাসিন্দা হেশাম মোহাম্মদ বাদাওয়ি জানান, কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই তাঁর পাঁচতলা বাড়িটি একটি এপিসি বিস্ফোরণে ধূলিসাৎ হয়ে যায়। তিনি বলেন, "মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে এবং আমার পরিবারের ৪১ জন সদস্য অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।" এই নতুন কৌশলের কারণে গাজার আবাসিক এলাকাগুলো এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে।

ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্র ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, সেনাদের ঝুঁকি কমাতে এই পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে। সাধারণত সেনারা সরাসরি ভবনে ঢুকে তল্লাশি চালানোর বদলে দূর থেকে এই বিস্ফোরক ভর্তি যান পাঠিয়ে সেটি উড়িয়ে দিচ্ছে। এতে একটি বিস্ফোরণেই পুরো ভবন ধসে পড়ছে এবং আশপাশের কয়েকশ মিটার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

হামাসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এই ধ্বংসযজ্ঞের মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষকে এলাকাছাড়া করা। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বিস্তারিত তথ্য না দিয়ে কেবল জানিয়েছে, তারা যুদ্ধের নিয়ম মেনেই প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহারকে মানবিক আইনের লঙ্ঘন বলে সতর্ক করেছেন।

Previous Post Next Post