আর নয় বাইরের লোক; সেন্টমার্টিনের পর্যটন এখন শুধুই স্থানীয়দের হাতে।

 

সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটন ব্যবসা পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনছে সরকার। এখন থেকে এই দ্বীপে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকাণ্ড কেবল স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে, কোনো বহিরাগত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এখানে ব্যবসার সুযোগ পাবে না। দ্বীপের পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাইরের জেলা থেকে এসে যারা হোটেল, রিসোর্ট বা দোকানপাট চালানোর পরিকল্পনা করছেন, তাদের আর অনুমতি দেওয়া হবে না।

বর্তমানে দ্বীপে থাকা বহিরাগতদের মালিকানাধীন স্থাপনাগুলোর বিষয়েও নতুন নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। পর্যটকদের গাইড সেবা থেকে শুরু করে থাকা-খাওয়ার সব ব্যবস্থা স্থানীয়রা তদারকি করবেন। এর ফলে দ্বীপের আয়ের টাকা স্থানীয় অর্থনীতিতেই থেকে যাবে এবং পরিবেশের ওপর চাপ কমবে। পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থান সীমিত করার পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য রোধে স্থানীয়দের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সরকার মনে করছে, দ্বীপের মানুষরাই তাদের মাটির সঠিক যত্ন নিতে পারবে।

দ্বীপের ইকো-সিস্টেম বা ভারসাম্য বজায় রাখতে পর্যটকের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়ার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এখন থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে ইচ্ছুক পর্যটকদের আগেভাগেই নিবন্ধন করতে হবে। বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হলে দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সমন্বয়ে ছোট ছোট কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটন ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেন্টমার্টিন আর বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র থাকবে না, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে।


Previous Post Next Post