ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে পরিকল্পনা করে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আজ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হাদিকে হত্যার জন্য ঘাতকরা কয়েক দফা বৈঠক করে এবং তার গতিবিধি নজরে রাখতে একটি বিশেষ দল নিয়োগ দেয়। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া এবং পরিকল্পনার সাথে জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এই ভয়াবহ ছক বেরিয়ে আসে।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক আদর্শিক বিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাদির বলিষ্ঠ অবস্থানের কারণে একটি প্রভাবশালী চক্র তাকে তাদের পথের কাঁটা মনে করতে শুরু করে। হত্যার পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে পেশাদার খুনিদের সহযোগিতা নেওয়া হয় এবং বড় অঙ্কের টাকার লেনদেন হয়। ঘটনার দিন হাদি কোথায় অবস্থান করছিলেন এবং কখন একা থাকবেন, সেই সব খবর পরিকল্পনাকারীদের কাছে আগে থেকেই ছিল। পুলিশ বলছে, এই হত্যার মূল মাস্টারমাইন্ডদের পরিচয় প্রায় নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, হাদিকে হত্যার পর বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। কিন্তু গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে ঘাতকদের আসল উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়ে যায়। গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মাঠ থেকে সরিয়ে দিয়ে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। উদ্ধারকৃত নথিপত্র এবং মোবাইলের কল রেকর্ড থেকে হাদিকে ট্র্যাকিং করার প্রমাণ মিলেছে। এই ঘটনায় জড়িত পলাতক বাকি আসামিদের ধরতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে ডিবি।
