ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন রাজনীতিতে তীব্র মতভেদ আর অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউস সরাসরি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেও মার্কিন কংগ্রেসের অনেক প্রভাবশালী সদস্য এর ঘোর বিরোধিতা করছেন। রিপাবলিকানদের একাংশ মনে করছে, ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র ফেরাতে শক্তির বিকল্প নেই। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, এতে মার্কিন সেনাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং দক্ষিণ আমেরিকায় অস্থিতিশীলতা বাড়বে। পেন্টাগনের ভেতরেও এই সম্ভাব্য অভিযান নিয়ে অস্বস্তি কাজ করছে বলে সামরিক সূত্রের খবর।
মার্কিন প্রশাসনের নীতিনির্ধারকরা দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকারের দমন-পীড়ন বন্ধ করতে সামরিক চাপ প্রয়োজন। তবে এই অজুহাত মানতে নারাজ বিরোধী দলগুলো; তাদের মতে এটি হবে অন্য একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত নাক গলানো। লাতিন আমেরিকার অন্য দেশগুলোও আমেরিকার এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে ভালোভাবে নিচ্ছে না। তারা মনে করে, শক্তি প্রয়োগের বদলে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান হওয়া উচিত। এই বিভক্তির ফলে ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতি এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন চলছে যে, আমেরিকা কি আসলেই কোনো বড় যুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছে কি না। মার্কিন সিনেটে এই বিষয়ে একটি উত্তপ্ত বিতর্ক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে বাইডেন প্রশাসনকে জবাবদিহি করতে হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির ওপর পড়তে পারে। সামরিক বাজেট কমানোর দাবি জানানো গোষ্ঠীগুলোও রাজপথে প্রতিবাদ শুরু করেছে। শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন পিছু হটে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
