ভেনেজুয়েলার উপকূলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক বিশেষ অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের আশঙ্কা নতুন করে মাথাচারা দিয়ে উঠেছে। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে ইরানের জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার ও ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন কড়া অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ। পেন্টাগন জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় মাদুরো সরকারকে সহায়তা করতে আসা ইরানি প্রভাব রুখতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের কোনো স্বার্থে আঘাত করা হলে পারস্য উপসাগরসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো নিরাপদ থাকবে না। বর্তমানে ক্যারিবীয় সাগরে দুই দেশের যুদ্ধজাহাজগুলো একে অপরের খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তের সংঘর্ষের সংকেত দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, ইরান ও ভেনেজুয়েলা মিলে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ তেলের বাজার তৈরি করছে। এই চক্র ভাঙতে ট্রাম্প প্রশাসন আরও অতিরিক্ত সেনা ও রণতরি মোতায়েনের সবুজ সংকেত দিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা যেকোনো মার্কিন আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলা এখন কেবল একটি দেশ নয়, বরং ওয়াশিংটন ও তেহরানের ছায়াযুদ্ধের প্রধান ময়দানে পরিণত হয়েছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকেও এই ইস্যুতে আমেরিকার হস্তক্ষেপের নিন্দা জানানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম এই উত্তেজনার ফলে দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।
ইন্টারনেট ও কৃত্রিম উপগ্রহের চিত্রে দেখা গেছে, ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় ইরানি ড্রোন টহল দিচ্ছে, যা সরাসরি আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করছে হোয়াইট হাউস। দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন একমাত্র ভরসা হিসেবে সামরিক শক্তিই দৃশ্যমান হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো বলছে, ভুলবশত একটি গুলি চললেও তা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। আগামী কয়েক দিন এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
