বরফের দেশে চীনের জয়জয়কার: অ্যান্টার্কটিকায় চালু হলো অত্যাধুনিক ছিনলিং স্টেশন


 অ্যান্টার্কটিকায় নিজেদের পঞ্চম গবেষণা কেন্দ্র 'ছিনলিং স্টেশন' চালু করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে চীন। রস সাগরের ইনএক্সপ্রেসিভল দ্বীপে তৈরি এই স্টেশনটি দুর্গম বরফে ঘেরা অঞ্চলে চীনের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। স্টেশনটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে প্রতিকূল আবহাওয়াতেও বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করতে পারেন। এটি মূলত অ্যান্টার্কটিকার সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে নিবিড় গবেষণার কাজ করবে।

ছিনলিং স্টেশনটি পাঁচ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এবং এতে একসঙ্গে ৮০ জন মানুষের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এর বিশেষ কাঠামো তীব্র ঝড় এবং হিমাঙ্কের অনেক নিচের তাপমাত্রায়ও টিকে থাকতে সক্ষম। চীনের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, স্টেশনটির মাধ্যমে দক্ষিণ মেরুর পরিবেশগত রহস্য উন্মোচন করা অনেক সহজ হবে। স্টেশনটি পরিচালনার জন্য সৌরশক্তি ও বায়ুবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এই স্টেশনের মাধ্যমে চীন অ্যান্টার্কটিকায় তাদের উপস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করল। চীনের স্টেট ওশেনিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, শুধু গবেষণা নয় বরং আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের কেন্দ্র হিসেবেও এটি কাজ করবে। স্টেশনটি তৈরির সময় সামুদ্রিক প্রাণীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবে অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে যাওয়ার গতি পর্যবেক্ষণ করা এখন চীনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এটি চীনের মেরু গবেষণা ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Previous Post Next Post