মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিনিময়ে বাংলাদেশে ঢুকছে ভয়ংকর সব মাদক। পাচারকারীরা চাল, ডাল বা তেলের মতো পণ্যের বদলে ওপার থেকে নিয়ে আসছে ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ বা আইসের বড় বড় চালান। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী পয়েন্টগুলোতে এখন টাকার বদলে পণ্য দিয়ে মাদক কেনাবেচার এক নতুন সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের পাশাপাশি প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। নজরদারি এড়াতে দুর্গম পাহাড়ি পথ ও নাফ নদীকে ব্যবহার করছে এই সিন্ডিকেট।
টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য ওপারে পাঠানো হচ্ছে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই। বিনিময়ে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশে মাদকের চালান পাঠিয়ে দিচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ধারণা, আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতেই বিনিময় প্রথার এই কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে। সীমান্তে কড়াকড়ি থাকলেও মাদক আসা কেন বন্ধ হচ্ছে না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বড় বড় চালান ছাড় দেওয়ার বিনিময়ে প্রশাসনের একটি অংশ নিয়মিত মাসোহারা নিচ্ছে।
এই চক্রটি এতটাই শক্তিশালী যে, স্থানীয় সাধারণ মানুষ বা সংবাদকর্মীরা তথ্য দিতেও সাহস পাচ্ছেন না। সম্প্রতি কয়েকটি বড় অভিযানে প্রশাসনের নিম্নস্তরের কয়েকজনের সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। পাচারকারীরা এখন নিয়মিত রুট বদলে নতুন নতুন এলাকা দিয়ে প্রবেশ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, যারা এই বিষাক্ত কারবারের নেপথ্যে কাজ করছে, তাদের পরিচয় শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
