ট্রাম্পের আশ্বাসেও মন গলছে না তেল কোম্পানিগুলোর; ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগে মহাবিপত্তি!

ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বিনিয়োগের জন্য নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভয় দিলেও তাতে খুব একটা সাড়া দিচ্ছে না বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির আশ্বাস দেওয়া হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি জায়ান্টরা এখনই দেশটিতে অর্থ খাটাতে ভরসা পাচ্ছে না। মূলত ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নড়বড়ে অর্থনৈতিক কাঠামোর কারণে কোম্পানিগুলো চরম ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা করছে। এছাড়া দেশটির ওপর থাকা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি না ওঠা পর্যন্ত কোনো বড় পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছে না শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারীরা।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার ওপর থেকে কিছু কড়াকড়ি শিথিল করার ইঙ্গিত দিলেও দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলো মনে করছে, শুধুমাত্র প্রেসিডেন্টের মৌখিক আশ্বাসে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। ল্যাটিন আমেরিকার এই দেশটিতে তেলের বিশাল মজুদ থাকলেও অবকাঠামো অত্যন্ত জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এই জরাজীর্ণ অবকাঠামো সংস্কার করতে যে বিশাল অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শেভরন বা এক্সন মবিলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যবেক্ষণে থাকার কৌশল নিয়েছে।

এর বাইরে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ আইনি জটিলতা এবং বর্তমান সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের অমীমাংসিত বৈরিতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ল্যাটিন আমেরিকার রাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত বিনিয়োগের জোয়ার দেখা যাবে না। তেল উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং যন্ত্রপাতির অবাধ সরবরাহ নিশ্চিত করাও কোম্পানিগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে ট্রাম্পের সবুজ সংকেত সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার তেলের বাজার আপাতত ঝিমিয়েই থাকছে।
 


Previous Post Next Post