২০২৫ সালে সড়কের ভয়ংকর রূপ: ৭ হাজার প্রাণ নেই, আপনার পরিবার কি নিরাপদ?

২০২৫ সালে বাংলাদেশের সড়কগুলো মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল, যেখানে বছরজুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ। বেসরকারি সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, গত এক বছরে ছোট-বড় মিলিয়ে হাজারো সড়ক দুর্ঘটনায় এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৪০ শতাংশ। দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের আধিক্যকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বা ইজিবাইকের অবাধ চলাচল মৃত্যুর মিছিলকে আরও দীর্ঘ করেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে উৎসবের মৌসুমে যেমন দুই ঈদ ও পূজোর ছুটিতে ঘরে ফেরা মানুষের ভিড়ে বড় বড় দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে চালকদের অদক্ষতা এবং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোকেও দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু ঢাকা নয়, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মহাসড়কগুলোতেও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের চিত্র ছিল নিত্যনৈমিত্তিক। এই পরিস্থিতিতে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কর্মীরা সরকারের কড়া নজরদারি ও আইনের কঠোর প্রয়োগ দাবি করেছেন।

নিহতদের পাশাপাশি কয়েক হাজার মানুষ সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, যা অনেক পরিবারকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হলেও মাঠপর্যায়ে সেটির প্রভাব খুব একটা দেখা যায়নি। ফিটনেসবিহীন বাস ও ট্রাকের বেপরোয়া প্রতিযোগিতার বলি হয়েছেন পথচারী ও সাধারণ যাত্রীরা। বছর শেষে এই ৭ হাজার প্রাণহানির খবর দেশের পরিবহন ব্যবস্থার কঙ্কালসার অবস্থাকেই বড় করে সামনে এনেছে।
 

Previous Post Next Post