সালাহকে কাঁদিয়ে ফাইনালের মঞ্চে মরক্কো: বুনোর হাতই কি তবে জাদুর কাঠি?


 ইয়াসিন বুনোর অবিশ্বাস্য গোলকিপিং আর ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সালাহর স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। মরক্কোর দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বুনো পুরো ম্যাচজুড়ে একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করে দলকে নিয়ে গেলেন ফাইনালের মঞ্চে। অন্যদিকে সাদিও মানের জয়সূচক গোলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়, যা মোহামেদ সালাহ এবং তার দলের জন্য এক বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সালাহ এই ম্যাচে অনেকটা বোতলবন্দি হয়ে ছিলেন বিপক্ষ রক্ষণভাগের কড়া পাহারায়। প্রথমার্ধ থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের দেখা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। মরক্কোর মাঝমাঠের দখল এবং দ্রুত গতির কাউন্টার অ্যাটাকগুলো সালাহর দলের রক্ষণভাগকে বারবার ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছিল। সাদিও মানে যখন ডি-বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে বল জালে জড়ান, তখন পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে। সালাহ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ভাগ্যের সহায়তা পাননি। বুনোর অসাধারণ কিছু সেভ ম্যাচের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দেয়, বিশেষ করে পেনাল্টি বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া সালাহর একটি শট যেভাবে তিনি রুখে দিয়েছেন তা ছিল চোখে পড়ার মতো। এই জয়ের ফলে আফ্রিকার ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করল মরক্কো। পরাজয়ের পর সালাহকে মাঠে অনেকটা ভেঙে পড়তে দেখা যায়, যা তার সমর্থকদের হৃদয়ে ক্ষত সৃষ্টি করেছে। শিরোপার খুব কাছে গিয়েও এভাবে বিদায় নেওয়াটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না সালাহর সতীর্থরা। অন্যদিকে ইয়াসিন বুনো এখন মরক্কোর জাতীয় বীর, যার বিশ্বস্ত হাত দুটি তাদের ঐতিহাসিক এক সাফল্যের দুয়ারে পৌঁছে দিল।

Previous Post Next Post