যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সংকট মেটাতে ভেনেজুয়েলা থেকে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানির ঘোষণা দিয়েছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক সরিয়ে রেখে সস্তায় জ্বালানি নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, নিজের দেশের তেলের বাজার স্থিতিশীল করতে এবং সাধারণ মানুষের খরচ কমাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে এই চুক্তিতে পৌঁছেছেন তিনি।
এই বিপুল পরিমাণ তেল হাতে পেলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিন ও অন্যান্য জ্বালানির দাম এক ধাক্কায় অনেকটা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে ভেনেজুয়েলার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরই সুর নরম করতে শুরু করেছেন। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমানো এবং নিজ দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতেই ট্রাম্প এমন 'বিতর্কিত' কিন্তু কার্যকর পথে হাঁটছেন। তেলের বদলে ভেনেজুয়েলার ওপর থেকে কিছু নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের মজুদকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা জরুরি তেলের ভাণ্ডার নতুন করে পূর্ণ করার পরিকল্পনা করছে। ট্রাম্পের দাবি, ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রের পরিশোধন কেন্দ্রগুলোর জন্য বেশি উপযোগী এবং এটি পরিবহন খরচও অনেক কমিয়ে দেবে। শীঘ্রই এই তেলবাহী জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরের দিকে রওনা হবে বলে হোয়াইট হাউস সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এই চুক্তির ফলে লাতিন আমেরিকায় ভেনেজুয়েলার প্রভাব আরও বাড়বে কি না, তা নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেই দ্বিমত দেখা দিয়েছে।
