আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি মনে করেন, এবারের নির্বাচনে এই প্রযুক্তিগুলো জনমত গঠনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভোটারদের বিভ্রান্ত করার বড় হাতিয়ার হতে পারে। প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে এবং কৃত্রিমভাবে তৈরি করা কন্টেন্ট ব্যবহার করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, এআই ব্যবহার করে প্রভাবশালী প্রার্থীদের চরিত্রহনন বা ভুয়া ভিডিও তৈরির ঝুঁকি গত যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো এখন তথ্যের চেয়ে গুজব ছড়ানোর বড় ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে ফেসবুক, টিকটক বা ইউটিউবের মতো মাধ্যমগুলোতে নজরদারি বাড়ানো এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, "নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হলে ডিজিটাল এই প্ল্যাটফর্মগুলোর অপব্যবহার কঠোর হাতে দমন করতে হবে।" দেবপ্রিয় আরও জানান, ডিজিটাল মাধ্যমে কৌশলে টাকা খরচ করে নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর প্রবণতা নির্বাচনী পরিবেশকে দূষিত করছে। এটি কেবল ভোটারদের সঠিক তথ্য পাওয়ার অধিকারই কেড়ে নিচ্ছে না, বরং পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
তিনি বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রযুক্তিগতভাবে আরও দক্ষ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কেবল সরাসরি প্রচারণায় নজর রাখলে হবে না, সাইবার জগতের পর্দার আড়ালে কী চলছে সেদিকেও চোখ রাখা বাধ্যতামূলক। নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইন্টারনেটে কোনো কিছু দেখলেই তা বিশ্বাস না করে যাচাই করে দেখা উচিত। সঠিক নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ না থাকলে প্রযুক্তি গণতন্ত্রের সহায়ক হওয়ার বদলে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এবারের নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা ডিজিটাল চ্যালেঞ্জগুলোর কারণে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি মনে করছেন।
