বিচারের মুখে ভেনেজুয়েলার মাদুরো: ১৫ মিলিয়ন ডলারের মাথার দাম ও ভয়ংকর ভবিষ্যৎ


 ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে তাঁর কপালে ঠিক কী শাস্তি জুটবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। মাদুরোর বিরুদ্ধে মূলত মানবতাবিরোধী অপরাধ, মাদক পাচার এবং ভয়াবহ দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যদি তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া তথ্য-প্রমাণ আমলে নিয়ে বিচারকার্য সম্পন্ন করে, তবে কঠোর শাস্তির সম্ভাবনা দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার সংবিধানে মৃত্যুদণ্ডের কোনো বিধান নেই, তাই সেখানে সরাসরি ফাঁসির রায় হওয়ার সুযোগ খুব একটা নেই। তবে আইসিসি বা আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচার হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।


মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালান বা 'নারকো-টেরোরিজম' এর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রেও মামলা রয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ তাঁর মাথার দাম নির্ধারণ করে রেখেছে ১৫ মিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে বিচার হলে মাদুরোর জন্য ৩০ বছর থেকে শুরু করে আমৃত্যু জেল খাটার পরিস্থিতি হতে পারে। মাদুরো সরকারের আমলের দমন-পীড়ন এবং হাজার হাজার মানুষকে গুম ও হত্যার অভিযোগগুলো আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণিত হলে সাজা আরও কঠোর হবে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, সরাসরি শাস্তি এড়াতে মাদুরো কোনো নিরাপদ দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ের পথ বেছে নিতে পারেন। তবে জনরোষ ও আইনি চাপ যেভাবে বাড়ছে, তাতে বিচার এড়ানো তাঁর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

ভেনেজুয়েলার বর্তমান আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজা ৩০ বছরের কারাদণ্ড, যা নিয়ে দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অনেকেই চান মাদুরোর আমলের অপরাধের জন্য এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক যা অন্য কোনো স্বৈরশাসকের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে। তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যা বিচারে তাঁর আর্থিক ভিত্তিকেও দুর্বল করে দেবে। শেষ পর্যন্ত বিচারের রায় জেলের দেয়াল হবে নাকি অন্য কিছু, তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক মহলের কূটনৈতিক চাপের ওপর।

Previous Post Next Post