গ্রিনল্যান্ড দখলের নেশায় ট্রাম্প! ডেনমার্কের সাথে কি যুদ্ধের দামামা বাজবে?


 ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড কেনার তোড়জোড় শুরু করেছেন এবং যেকোনো উপায়ে এটি যুক্তরাষ্ট্রের দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। হোয়াইট হাউসের পরবর্তী মেয়াদে এই দ্বীপটি দখল বা কেনা তার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হতে যাচ্ছে। ট্রাম্প মনে করেন, বিশাল খনিজ সম্পদ এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি অত্যন্ত লাভজনক সম্পদ হবে। এর আগে তার প্রথম মেয়াদেও তিনি ডেনমার্কের কাছে দ্বীপটি কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক হাসাহাসি ও বিতর্ক হয়েছিল। তবে এবার তিনি আরও আক্রমণাত্মক কৌশল অবলম্বন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, যারা শুরু থেকেই এটি বিক্রির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে আসছে। ডেনমার্ক সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং ট্রাম্পের এই দাবি অযৌক্তিক। কিন্তু ট্রাম্পের উপদেষ্টারা মনে করছেন, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ জরুরি। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশাল সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ট্রাম্পের রয়েছে। অর্থনৈতিকভাবেও গ্রিনল্যান্ডের তুষারের নিচে চাপা পড়া তেল, গ্যাস এবং দুর্লভ খনিজ সম্পদের ওপর নজর রয়েছে ওয়াশিংটনের।

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গেলে ডেনমার্কের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের চরম অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে ট্রাম্প সম্ভবত সরাসরি ক্রয় প্রস্তাবের বদলে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের সমর্থকরা এই পরিকল্পনাকে 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির অংশ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, পরিবেশবাদীরা আশঙ্কা করছেন যে সেখানে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে দ্বীপটির প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং বরফের চাদর হুমকির মুখে পড়বে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন বড় ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

Previous Post Next Post