বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা কেন দেশেই চাকরি খুঁজছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সম্প্রতি সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে এক বৈঠকে তিনি বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন। ড. ইউনূস স্পষ্ট করে বলেন, শিক্ষা যদি কেবল ভালো চাকরির প্রত্যাশা তৈরি করে, তবে সেই শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি। তার মতে, পড়াশোনা শেষে তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা তৈরি করা প্রয়োজন। দেশের শিক্ষা পদ্ধতি এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে একজন শিক্ষার্থী নিজেকে অন্যের অধীনে কাজ করার উপযোগী না করে বরং নিজেই কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা মনে করেন, বর্তমান শিক্ষাক্রম শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতাকে অনেকটা আটকে দিচ্ছে এবং তাদের মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটাচ্ছে না। তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে ঢেলে সাজানো হয় যা তরুণদের সমস্যা সমাধানে দক্ষ করে তুলবে। ড. ইউনূস বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, তরুণদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ‘জব গিভার’ বা কর্মদাতা হওয়া, ‘জব সিকার’ বা চাকরিপ্রার্থী হওয়া নয়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এই মানসিক পরিবর্তনকে তিনি অপরিহার্য বলে মনে করেন। তিনি আরও বলেন, কেবল পাঠ্যপুস্তকের তত্ত্বীয় জ্ঞান দিয়ে বর্তমান সময়ের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। শিক্ষা যেন বাস্তব জীবনের লড়াইয়ে জয়ী হতে শেখায়, সেদিকেই নজর দিতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে কেবল ডিগ্রিধারী নয়, বরং দক্ষ এবং স্বনির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
