গভীর সমুদ্রের বিশাল সম্পদকে কাজে লাগাতে এবং সমুদ্রের রহস্য উদঘাটনে গবেষণার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমার নীল অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তিনি বিজ্ঞানীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, সাগরের তলদেশের খনিজ সম্পদ, মৎস্য এবং অন্যান্য প্রাণিজ সম্পদ দেশের অর্থনৈতিক চেহারা বদলে দিতে পারে। আজ এক বিশেষ বৈঠকে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও গবেষকদের এই নির্দেশ দেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে সাগরের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বুঝতে গভীর সমুদ্রের তথ্য অত্যন্ত জরুরি। কেবল মাছ ধরা নয়, বরং সমুদ্রের তলদেশে থাকা মূল্যবান খনিজ পদার্থ উত্তোলনের প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করতে হবে। তিনি বিদেশি গবেষকদের সাথে যৌথভাবে কাজ করার পাশাপাশি দেশীয় দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। সরকার সমুদ্র গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক জাহাজ ও সরঞ্জাম কেনার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।
সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে কীভাবে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব, সেটিই হবে এই গবেষণার মূল লক্ষ্য। প্রতিবেশী দেশগুলো যখন সমুদ্রের সম্পদ ব্যবহারে অনেক এগিয়ে গেছে, সেখানে বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে থাকবে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। ড. ইউনূস নির্দেশ দিয়েছেন যেন দ্রুত একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরি করে গভীর সমুদ্রে অভিযান শুরু করা হয়। এই উদ্যোগ সফল হলে জ্বালানি সংকটের সমাধান এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
