ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকটে নতুন মোড় নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রদ্রিগেজ। বর্তমান সরকারের তীব্র বিরোধিতার মুখেও রাজধানী কারাকাসে এক জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রদ্রিগেজ শপথ নিয়ে ঘোষণা করেছেন, তার মূল লক্ষ্য হলো দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করা। এই শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও আশার আলো দেখা দিয়েছে। নতুন এই পরিবর্তনের ফলে দেশটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতা কাটবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শপথ নেওয়ার পরপরই রদ্রিগেজকে সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ। তারা তাকে ভেনেজুয়েলার বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমান ক্ষমতাসীন পক্ষ এই শপথ গ্রহণকে অবৈধ এবং অসাংবিধানিক বলে আখ্যায়িত করেছে। কারাকাসের রাস্তায় রদ্রিগেজের সমর্থকরা উল্লাস করলেও নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দেশটির সেনাবাহিনী এখনও কোনো সরাসরি মন্তব্য না করলেও তাদের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে জনমনে চরম কৌতূহল বিরাজ করছে। রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, তিনি খুব দ্রুত একটি অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভা গঠন করবেন।
ভেনেজুয়েলার বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বৈদেশিক সাহায্য ও সঠিক নীতিমালার মাধ্যমে দেশের মানুষের কষ্ট লাঘব করা সম্ভব। বিরোধীদের এই ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপে বর্তমান প্রেসিডেন্ট বেশ চাপের মুখে পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রদ্রিগেজের শপথ অনুষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে বড় সংবাদমাধ্যমগুলোর নজর কেড়েছে। এখন দেখার বিষয় হলো, রদ্রিগেজ কত দ্রুত দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারেন এবং সেনাবাহিনী তার নির্দেশ পালন করে কি না।
