রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় নিজ বাসায় জামায়াত নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফখরুদ্দিন আহমেদকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। মঙ্গলবার গভীর রাতে জানালার গ্রিল কেটে ঘাতকরা ঘরের ভেতর প্রবেশ করে এই হত্যাকাণ্ড চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকেই প্রথমে ফখরুদ্দিনের হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং তার মুখে কাপড় গুঁজে দেয় যাতে তিনি চিৎকার করতে না পারেন। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
হত্যাকাণ্ড চালানোর পর ঘাতক দলটি আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা পাশের ঘরে থাকলেও তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ও সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি কেবল ডাকাতি নয়, বরং পরিকল্পিত কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
নিহত ফখরুদ্দিন আহমেদ স্থানীয় জামায়াত রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং এলাকায় তাঁর বেশ প্রভাব ছিল। জামায়াতের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় অপরিচিত কিছু মানুষের আনাগোনা দেখা গিয়েছিল। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে খুনিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
