১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের বিশ্ব অর্থনীতির সর্বশেষ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশ ভিন্ন ভিন্ন আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমলেও ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর বিষয়ে এখনো দোটানায় রয়েছে। চীন তাদের আবাসন খাতের দীর্ঘমেয়াদী মন্দা কাটাতে নতুন করে বিশাল অংকের আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, যা বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বাড়াতে পারে। ইউরোপের দেশ জার্মানি উৎপাদনমুখী শিল্পে মন্দার কারণে এখনো অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর থাকায় ব্রিটিশ পাউন্ডের মান কিছুটা স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এশিয়ার দেশ জাপানে মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকায় বিনিয়োগকারীরা সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। ভারতের অর্থনীতিতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলেও বেকারত্ব হার কমানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পর্যটন ও প্রযুক্তি খাতে বড় বিনিয়োগ শুরু করেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলেও তারা বিকল্প বাজার হিসেবে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সাথে বাণিজ্য বাড়িয়েছে। অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন তাদের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে পুরোপুরি পশ্চিমা সাহায্যের ওপর নির্ভর করছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো তীব্র মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে থাকায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত মেনে চলতে বাধ্য হচ্ছে। ব্রাজিলের কৃষি রপ্তানি বাড়লেও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশটিতে বৈদেশিক বিনিয়োগ আসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
