১১ দিন পার: ইরানের রাজপথ এখন রণক্ষেত্র, থামছেই না বিক্ষোভের আগুন


 ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও থামার কোনো লক্ষণ নেই, বরং দিন দিন তা আরও সহিংস হয়ে উঠছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের ছোট-বড় প্রায় প্রতিটি শহরে আন্দোলনকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যারিকেড ভেঙে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন জায়গায় সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করেছেন এবং সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার দেশের বেশিরভাগ এলাকায় উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে রেখেছে।

আন্দোলন দমাতে রেভল্যুশনারি গার্ড ও বাসিজ বাহিনীকে মাঠে নামানো হলেও সাধারণ মানুষ পিছু হটছে না। বিশেষ করে তরুণ সমাজ ও নারীদের অংশগ্রহণ এই বিক্ষোভকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। অনেক জায়গায় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও পেট্রোল বোমা ছোঁড়ার ঘটনা ঘটেছে, যার জবাবে পুলিশ টিয়ার শেল ও তাজা গুলি ব্যবহার করছে। বিদেশি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বন্দিদের সংখ্যা এতই বাড়ছে যে কারাগারগুলোতে জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে ধর্মঘটের ডাক দেওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, এই বিশৃঙ্খলার পেছনে বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে এবং তারা কঠোরভাবে এটি দমন করবেন। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে চলা অর্থনৈতিক সংকট এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের প্রতিবাদেই তারা রাস্তায় নেমেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ইরানি প্রবাসীরাও এই আন্দোলনের সমর্থনে বড় বড় শহরে বিক্ষোভ মিছিল করছেন। এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো আশ্বাসই রাজপথের এই উত্তাপ কমাতে পারেনি। বিক্ষোভ যত দীর্ঘ হচ্ছে, দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ততটাই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Previous Post Next Post