প্রকৃতির রুদ্রমূর্তি: ২০২৬-এর শুরুতেই লণ্ডভণ্ড বিশ্ব, কোথায় কী ঘটছে?


 বছরের শুরু থেকেই একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। আজ ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এশিয়া থেকে আমেরিকা—সবখানেই প্রকৃতি রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। ইন্দোনেশিয়ার বালি ও এর আশপাশের দ্বীপে টানা ভারী বর্ষণে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে। উত্তর বালির পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অনেক জনপদ। ফিলিপাইনের অবস্থা আরও উদ্বেগজনক; সেখানে মাউন্ট মেয়ন আগ্নেয়গিরি থেকে অনবরত লাভা ও ছাই নির্গত হওয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্নুৎপাতের আশঙ্কায় হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে আল্পস পর্বতমালায় কয়েক দফা তুষারধসে বেশ কয়েকজন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে। একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলছে চরম আবহাওয়া; ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের গ্রেট ওশান রোড এলাকায় আকস্মিক বন্যায় রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে, বিশেষ করে মোজাম্বিক সীমান্তে পানির নিচে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। এদিকে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে দীর্ঘস্থায়ী খরা ও লা নিনা পরিস্থিতির কারণে বনাঞ্চলে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির দমকল বাহিনী। আর্জেন্টিনার পাতাগোনিয়া অঞ্চলেও প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দাবানলে। জাপানে সাম্প্রতিক ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এখনো ছোট ছোট আফটারশক অনুভূত হচ্ছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে আফ্রিকার দেশ সোমালিয়া ও কেনিয়ায় বৃষ্টির অভাবে ভয়াবহ খরা দেখা দিয়েছে, যা খাদ্য সংকটের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

Previous Post Next Post