২০০২ থেকে ২০২৬: বাংলাদেশে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি আসার আদ্যোপান্ত


 ২০০২ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমবারের মতো ২০০২ সালের জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপের আগে আসল ট্রফিটি বাংলাদেশে আনা হয়েছিল, যা তখন দেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর ২০১৩ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের আগে আবারও ঢাকায় আসে এই সোনালী ট্রফি। সেই সময়ে ট্রফিটি দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভিড় জমিয়েছিলেন এবং সরাসরি ট্রফির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পেয়েছিলেন।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের আগেও ট্রফিটি ঢাকায় এসে পৌঁছায় এবং প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনসহ বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শন করা হয়। ফিফার শর্ত অনুযায়ী, শুধুমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড়রাই এই ট্রফিটি স্পর্শ করতে পারেন। প্রতিবার ট্রফি আগমনের সময় ফিফার একটি প্রতিনিধি দল এবং সাবেক কোনো বিশ্বখ্যাত ফুটবল তারকা বাংলাদেশে আসেন। বাংলাদেশে ট্রফি ভ্রমণের সময় সাধারণত ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি ও কনসার্টের আয়োজন করা হয়।

২০২৬ সালের আসন্ন ৪৮ দলের বড় আসরকে সামনে রেখে আবারও বিশ্বকাপ ট্রফির বাংলাদেশ সফর নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। ফিফার গ্লোবাল ট্যুরের অংশ হিসেবে প্রতিবারই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর আগে যতবার ট্রফি এসেছে, ততবারই বিমানবন্দর থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট প্রদর্শনী কেন্দ্র পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশের সাধারণ ফুটবল প্রেমীদের কাছে এই ট্রফিটি কেবল একটি ভাস্কর্য নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সম্মানের প্রতীক। আগামী দিনে ট্রফিটি বাংলাদেশে আসলে তা দেশের ফুটবল সংস্কৃতির প্রসারে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Previous Post Next Post