২০২৬-এর শুরুতে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি: পকেটে টান পড়ছে সাধারণ মানুষের


 ২০২৬ সালের শুরুতেই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে উন্নত দেশগুলোর মুদ্রাস্ফীতি এবং জ্বালানি তেলের অনিয়ন্ত্রিত দাম। আজ ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার পুনরায় বৃদ্ধি করায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর মুদ্রার মান ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এতে করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। ইউরোপের বাজারে গ্যাসের সংকট কাটলেও শিল্পোৎপাদনে মন্দা ভাব কাটছে না, ফলে কর্মসংস্থানের বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, চীন তাদের আবাসন খাতের সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করলেও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন বা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় এখনও ধীরগতি রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) সতর্ক করেছে যে, চলতি বছরের মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৫ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ডলার সংকটের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে। সৌদি আরব ও রাশিয়া জ্বালানি তেলের উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় ব্যারেল প্রতি তেলের দাম আবারও ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোর উপক্রম হয়েছে।

ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষেত্রে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরলেও বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকছেন। বিশ্বজুড়ে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারের ফলে প্রযুক্তি খাতে বড় ধরণের বিনিয়োগ বাড়লেও সাধারণ ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে বিনিয়োগ কমছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্ব অর্থনীতি এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।

Previous Post Next Post