ইরানে কি তবে নামমাত্র প্রেসিডেন্ট? সব ক্ষমতার চাবিকাঠি যার পকেটে!


 ইরানের শাসনব্যবস্থা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ আলাদা, যেখানে ভোটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেও আসল ক্ষমতা থাকে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হাতে। দেশটির সংবিধানে এমনভাবে ক্ষমতার বণ্টন করা হয়েছে যে, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি এবং পারমাণবিক কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল খামেনিরই আছে। মূলত ১৯শে মে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুর পর এই শাসন কাঠামোর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। ইরানি ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট হলেন সরকারের প্রধান নির্বাহী, যিনি দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করেন এবং মন্ত্রিসভা গঠন করেন। তবে তিনি স্বাধীনভাবে কোনো বড় নীতি গ্রহণ করতে পারেন না; তাকে প্রতিটি পদক্ষেপে সর্বোচ্চ নেতার সবুজ সংকেত নিতে হয়। খামেনি সরাসরি সশস্ত্র বাহিনী, রেভল্যুশনারি গার্ড এবং বিচার বিভাগের প্রধানদের নিয়োগ দেন, যা তাকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে। এমনকি পার্লামেন্টে পাস হওয়া কোনো আইন যদি খামেনির মতাদর্শের সাথে না মেলে, তবে তার নিয়োগ দেওয়া ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’ সেটি বাতিল করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ১২ সদস্যের এই কাউন্সিলটিই ঠিক করে দেয় নির্বাচনে কারা প্রার্থী হতে পারবেন আর কারা পারবেন না। ফলে খামেনির পছন্দের বাইরের কেউ বড় কোনো পদে আসার সুযোগ প্রায় পান না বললেই চলে। ১৯৮৯ সাল থেকে খামেনি এই পদে আসীন এবং দেশের গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম—সবই তার নিয়ন্ত্রণে চলে। প্রেসিডেন্টের পদটি মূলত সর্বোচ্চ নেতার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। আন্তর্জাতিক মহলের সাথে কোনো চুক্তি করা বা যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয়েও প্রেসিডেন্টের একক কোনো কর্তৃত্ব নেই। সাধারণ মানুষের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় একটি গণতান্ত্রিক আবহ দেখা গেলেও, দিনশেষে ইরানের শাসনতন্ত্রে ‘ভেটো’ দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হাতেই সংরক্ষিত।

Previous Post Next Post