আসন্ন গণভোটে জনগণের 'হ্যাঁ' জয়যুক্ত হলে আগামী ৫০ বছরে দেশে আর কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি তৈরি হতে পারবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারকরা। বর্তমান রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার এবং স্বৈরাচারী ব্যবস্থার চিরস্থায়ী অবসান ঘটাতেই এই গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, এই ভোটের মাধ্যমে সংবিধানে এমন কিছু পরিবর্তন আনা হবে যা ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করবে। কোনো একক ব্যক্তি বা দল যেন ভবিষ্যতে রাষ্ট্রকে জিম্মি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য।
প্রস্তাবিত সংস্কারে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদ সীমাবদ্ধ করা এবং সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার আইনি ভিত্তি পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গণভোটে ইতিবাচক ফলাফল আসলে দেশে জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা কায়েম হবে। এর ফলে অতীতে যেভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে, তার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। সরকার বলছে, জনগণের রায় পেলে এই সুরক্ষা কবচ পরবর্তী কয়েক প্রজন্মকে স্বৈরাচারের হাত থেকে বাঁচাবে।
ইতিমধ্যেই সারা দেশে এই গণভোট ঘিরে ব্যাপক প্রচারণা শুরু হয়েছে। তরুণ ভোটারদের মধ্যে এ নিয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, যারা গত জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। বিরোধীদের অনেকে এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সরকারের পক্ষ থেকে একে 'জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এই ভোট সফল হলে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক আইনগুলোতে এমন সব পরিবর্তন আসবে যা কোনো সরকার চাইলেই সহজে পরিবর্তন করতে পারবে না। মূলত দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা এবং প্রকৃত গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপনই এই গণভোটের আসল উদ্দেশ্য।
