বিশ্বের আধুনিক প্রযুক্তি ও সবুজ শক্তি খাতের অপরিহার্য উপাদান 'রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট' বা বিরল খনিজ সম্পদের বাজার প্রায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে চীন। স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় এই ১৭টি খনিজের বিশ্বব্যাপী উত্তোলনের সিংহভাগই এখন চীনের দখলে। বেইজিংয়ের এই একাধিপত্য পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির পূর্বাভাস দিচ্ছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও প্রতিরক্ষা শিল্পে চীনের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমানোর পথ খুঁজছে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
বর্তমানে বিশ্বের মোট বিরল খনিজের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করা হয় চীনে, যা তাদের হাতে এক শক্তিশালী কূটনৈতিক অস্ত্র তুলে দিয়েছে। সম্প্রতি চীন বেশ কিছু উন্নত প্রযুক্তি ও খনিজ রফতানির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করায় বড় ধরণের সংকটে পড়েছে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, দক্ষিণ চীন সাগর বা তাইওয়ান ইস্যুতে চাপ তৈরি করতে চীন এই খনিজ সম্পদকে 'ব্ল্যাকমেইল' করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। বিকল্প হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ও ভিয়েতনাম নতুন খনি চালুর চেষ্টা করলেও চীনের বিশাল উৎপাদন ক্ষমতার সাথে পাল্লা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
নতুন এই ভূরাজনৈতিক সংঘাতের ফলে পশ্চিমা দেশগুলো এখন তাদের অভ্যন্তরীণ খনি ও সমুদ্রের তলদেশ থেকে খনিজ উত্তোলনে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এর ফলে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার শঙ্কা থাকলেও প্রযুক্তির দৌড়ে টিকে থাকতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে। চীন ও পশ্চিমাদের এই খনিজ যুদ্ধ ভবিষ্যতে কেবল বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা সামরিক উত্তেজনার দিকেও মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতি এখন এই খনিজ সম্পদের ওপর কতটা ঝুঁকি নেবে, তার ওপর নির্ভর করছে আগামীর প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা।
