গুমের বিচারের প্রথম টার্গেট জিয়াউল আহসান! কী আছে তার ভাগ্যে?


 

বাংলাদেশে গুম ও খুনের বিচার শুরু হলে প্রথম কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে। এমন মন্তব্য করেছেন জুলাই বিপ্লবে শহীদ ও আহতদের স্বজনরা। রাজধানীর এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বিগত সরকারের আমলে হওয়া গুমের নেপথ্যে মূল কারিগর ছিলেন এই আলোচিত কর্মকর্তা। তার নির্দেশে বহু মানুষকে তুলে নিয়ে বছরের পর বছর আয়নাঘরে আটকে রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, গুম হওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে জিয়াউল আহসানকে রিমান্ডে নিয়ে তথ্য বের করা জরুরি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জিয়াউল আহসানের হাত ধরেই বাংলাদেশে নজরদারি ও গুমের সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল বলে অভিযোগ করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তারা বলছেন, এই এক জনের বিচার করা গেলে গুমের পেছনের পুরো নেটওয়ার্ক প্রকাশ্যে চলে আসবে।

সাক্ষীরা জানিয়েছেন, ডিজিএফআই এবং এনএসআই-এর গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাকালীন তিনি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেন। এমনকি প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নাগরিকদের ফোনালাপ রেকর্ড করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গুম বিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে সই করার পর এই বিচারের পথ আরও সহজ হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে বিভিন্ন ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করে প্রমাণের খোঁজে কাজ শুরু করেছেন। জিয়াউল আহসানের বিচার গুম হওয়া পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারে।

Previous Post Next Post