বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সব লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি বলে স্বীকার করেছেন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা। রাষ্ট্র সংস্কার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার যে লক্ষ্যমাত্রা শুরুতে নির্ধারণ করা হয়েছিল, মাঠ পর্যায়ে তার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালে রাখা এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিনের জঞ্জাল পরিষ্কার করে অল্প সময়ে সব কাজ গুছিয়ে ওঠা প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি কঠিন প্রমাণিত হচ্ছে।
অর্থনৈতিক খাতে স্থিতিশীলতা ফেরানোর চেষ্টা চললেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো কমানো সম্ভব হয়নি। সিন্ডিকেট ভাঙার ঘোষণা দিলেও বাজারে তার প্রভাব খুব একটা পড়েনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন অস্থিতিশীল ঘটনাগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে প্রশাসনের সময় লাগছে। সংস্কারের কাজে গতি আনতে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক চললেও অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। সরকার মনে করছে, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তাদের কাজের গতিকে বারবার বাধাগ্রস্ত করছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও সরকারের কাজের ধীরগতি নিয়ে চাপ তৈরি হচ্ছে। সংস্কার শেষ করে দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জোরালো হওয়ায় সরকারকে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে সরকার দাবি করেছে, তারা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়নি বরং অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের পাশাপাশি তাৎক্ষণিক জনদুর্ভোগ কমাতে বিশেষ নজর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
