thought সোমালিল্যান্ডকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় দেশটিতে সফর করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। নতুন স্বাধীন দেশ হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার পর এই সফরকে একটি বড় কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধি দলটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। বিশেষ করে লোহিত সাগরের উপকূলে সোমালিল্যান্ডের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে যৌথ প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং কৃষি ও প্রযুক্তি খাতে সোমালিল্যান্ডকে সব ধরণের সহযোগিতা করবে।
সফরকালে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ও সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এবং সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা এই নতুন দেশটির আন্তর্জাতিক বৈধতা পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে কথা হয়েছে। সোমালিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ মনে করছে, ইসরায়েলের মতো শক্তিশালী দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর তাদের সার্বভৌমত্বের পথকে আরও মসৃণ করবে। অন্যদিকে ইসরায়েলের জন্য এই অঞ্চলটি সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি। দুই পক্ষই খুব শীঘ্রই নিজ নিজ রাজধানীতে দূতাবাস খোলার বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি প্রকাশ করেছে।
এদিকে সোমালিয়া সরকার এই সফরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং একে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দাবি করেছে। প্রতিবেশী দেশ ইথিওপিয়া ও জিবুতিও পুরো পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে। তবে কোনো চাপ পরোয়া না করে সোমালিল্যান্ড তাদের নতুন এই মিত্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকে এগোচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আফ্রিকার শিং অঞ্চলে ইসরায়েলের এই পদার্পণ পুরো এলাকার ভূ-রাজনীতি চিরতরে বদলে দিতে পারে। এই সফরের পরপরই সোমালিল্যান্ডের বেরবেরা বন্দরে নতুন কিছু অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।
