ভোটের আগে তোলপাড়! রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত পুরোপুরি লকডাউন করা হচ্ছে।


 আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত এলাকা পুরোপুরি সিল করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ভোটগ্রহণের কয়েকদিন আগে থেকেই এই বিশেষ কড়াকড়ি শুরু হবে যাতে সীমান্তের ওপার থেকে কোনো অনুপ্রবেশকারী বা অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি দেশের ভেতরে ঢুকতে না পারে। নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ক্যাম্পের ভেতরে থাকা রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং তারা যেন ক্যাম্পের বাইরে বের হতে না পারে তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনী।

সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল বাড়াতে ইতোমধ্যে বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সদস্যদের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে নাফ নদী ও দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত পথে নজরদারি কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এমন কোনো গোষ্ঠী যেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারিও চলছে। স্থানীয়দের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং নির্বাচনী পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে ভোটের দিনগুলোতে এনজিও কর্মীদের চলাচলেও কিছু বিধিনিষেধ থাকতে পারে। ক্যাম্পের কাঁটাতারের বেষ্টনীগুলো সংস্কার করা হয়েছে এবং সবকটি প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করা হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ভোট বা নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি যেন তাদের ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে কঠোর দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে ও পরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরির মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা হবে। জলপথ ও স্থলপথ উভয় দিকেই কোস্ট গার্ড ও পুলিশি পাহারা বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার কথাও ভাবছে কর্তৃপক্ষ। মূলত স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই আগাম সতর্কতা।

Previous Post Next Post